ঢাকা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেছেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা ও সিলেটের কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পানি নামতে শুরু করায় এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। বন্যাকবলিত আট জেলায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, কৃষি পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে দুর্গত এলাকায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি, পানি সম্পদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
আসাদুল হাবিব জানান, বর্তমানে সাতটি জেলা এবং সিলেটসহ মোট আটটি জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যাকবলিত। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৬ লাখ ৯৪১। এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনী কাজ করছে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
ত্রাণমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি (দুর্যোগমন্ত্রী) বুধবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবিব বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য শুধু জরুরি ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’