বান্দরবান: বান্দরবানে টানা সাতদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। ভুমিধস হয়েছে ৪৭টি, যার মধ্যে বড় ধস হয়েছে ১১টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলা, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রুমা উপজেলার নিচু এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জেলায় ২১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ১৬ জুলাই থেকে সব পর্যটন কেন্দ্র খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বান্দরবানকে ভবিষ্যতে বন্যামুক্ত করতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।’