Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্থানীয় নির্বাচন / আ.লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুলাই ২০২৬ ২১:৩২

ঢাকা: বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ আটকে দিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির মূল প্রস্তাব হলো- সরকারের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী কিংবা সক্রিয় সদস্যরা যাতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো স্তরেই প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করতে হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানায় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। চিঠিতে জামায়াত উল্লেখ করেছে, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান সংযোজন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। পরবর্তীতে ইসি দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। যেহেতু এবারের স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে, অর্থাৎ নির্দলীয়ভাবে করার কথা ভাবা হচ্ছে, তাই আওয়ামী লীগ নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে এতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসির পক্ষ থেকে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আচরণবিধির খসড়ার ওপর লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছিল। তারই জবাবে জামায়াতে ইসলামী তাদের এই সংস্কার প্রস্তাবনা জমা দেয়।

দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, যে দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাদের কোনো স্তরের নেতাকর্মীরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তারা আশা করছেন কমিশন এই সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

শুধু আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ঠেকানোই নয়, আচরণবিধি আধুনিক ও নিরপেক্ষ করতে জামায়াত আরও বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। তারা নির্বাচনি প্রচারণায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞাটি আরও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা বর্তমান প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার দাবি করা হয়েছে। প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের নীতিমালা প্রণয়ন এবং নির্বাচনি ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে ও ল্যাপটপ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে আপিল করার আইনি সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে স্থানীয় সরকারের কাঠামো পরিবর্তনে দুটি বিশেষ প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এর একটি হলো- ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানের সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ প্রথা বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডেই সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারী সদস্য নির্বাচিত করার ব্যবস্থা করা। অন্যটি হলো- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটার কারা হবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা।

এই বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের সুপারিশ যুক্ত করা হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তারা আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন বিধান যুক্ত করেছে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হওয়ার যুক্তিতে আচরণ বিধিমালায় ওই বিধান যুক্ত করার বিষয়ে ইসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর