ঢাকা: সংসদে বাজেটের আকার নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, উন্নয়ন চাইলে বাজেটের আকার অবশ্যই বড় হতে হবে। বাসায় ডাল-ভাতের বাজেট করে যদি কেউ বিরিয়ানি খেতে চান, তবে তা সম্ভব নয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি আরও বলেন, সবাই উন্নয়ন চান কিন্তু বড় বাজেটের সমালোচনা করেন, যা যৌক্তিক নয়। তিনি মন্তব্য করেন, সবাই বেহেশতে যেতে চান কিন্তু কেউ মরতে চান না।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং অর্থনীতি ও শিক্ষা খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই এই সুদূরপ্রসারী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে তাদের সরকারের ওপর আস্থা রয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও জিয়া পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছিল এবং এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ পুনরায় স্বাধীনতা অর্জন করেছে। জিয়া পরিবার বারবার বাংলাদেশকে রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, যারা আগে এসব কার্ডের সমালোচনা করেছিলেন, তারাই এখন এসবের জন্য উদগ্রীব। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ৪০ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করে তুলবে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিফার সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ৪৭ কোটি টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব কিনে বেসরকারি খাতে ৪৪ কোটি টাকায় বিক্রির মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে প্রায় বিনামূল্যে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা যাচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া তরুণ ও শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।