Saturday 27 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাজেট নিয়ে এবার ‘মানি না, মানব না’ স্লোগান ওঠেনি: জয়নুল আবেদিন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৬ ১৯:০২

সংসদ অধিবেশনে জয়নুল আবেদীন ফারুক।

ঢাকা: বিগত সময়গুলোর মতো এবারের বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানব না’ স্লোগান ওঠেনি মন্তব্য করে একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক। তিনি বলেন, বিরোধীদের সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে এবং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে একটি চমৎকার ও সুন্দর বাজেট দেওয়ায় অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জয়নুল আবেদিন ফারুক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে আজকের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন ‘শেখ হাসিনা ভোট চোর’। আজ একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের অর্থমন্ত্রী, সংসদ নেতা তারেক রহমানের পরিচালনায় মন্ত্রিসভা থেকে পাস করা একটি চমৎকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বহু বাজেট দেখলেও এবার বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানব না’ আওয়াজটা না আসা অত্যন্ত ভালো লেগেছে। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব; কিন্তু সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে।

অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক বক্তব্যের জবাবে ফারুক একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে কথা বলার দরকার নাই; আপনারা নিজেরাই বিচার করেন, ১৯৭১ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন? স্বাধীনতার মাত্র এক দিন আগে কারা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল এবং কারা দেশকে বুদ্ধিশূন্য করতে চেয়েছিল, সেই বিষয়গুলো নজরে আনার তাগিদ দেন তিনি। জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে কোনোভাবেই ভোলা যাবে না মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জানান ফারুক।

তিনি বলেন, অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।

বাজেটে বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের প্রশংসা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত করার বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

পাশাপাশি নারী সমাজের উন্নয়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটের নির্দেশনার প্রশংসা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই সংসদ যৌথভাবে কাজ করবে। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ফারুক বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা দেশ শাসন করেছে তারা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে এবং মানুষকে নিষ্পেষিত করেছে। গত ১৭ বছরে ইলিয়াস আলীসহ অনেকে গুম হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আহ্বান জানান, আসুন সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ এই প্রত্যয়ে সবাই মিলে দেশ গড়ি।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর