Saturday 27 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চুয়াডাঙ্গায় কিশোর রাফিজ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ১

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৬ ২১:৫৩ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ২১:৫৯

গ্রেফতার হওয়া হত্যা মামলার আসামি লাল্টু।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর কিশোর রাফিজ মিয়াকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দী উপজেলার নলিয়া গ্রামের রেলস্টেশন জামালপুর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতার হওয়া লাল্টু মিয়া চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানার দু’টি হত্যা এবং এ ঘটনাসহ মোট তিনটি হত্যা মামলার আসামি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এক বার্তায় জানানো হয়, আলমডাঙ্গার চিলাভালকী গ্রামের বাসিন্দা আমেনা খাতুনের (৫৬) নাতি রাফিজ মিয়াকে (১৫) গত শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে কল দিয়ে কৌশলে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। পরে রাত ১১টার দিকে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে ফোনকল করে রাফিজের মুক্তির জন্য ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় গত বুধবার (১০ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫)-এর ৭/৮/৩০ ধারায় মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া জানান, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় তাকে অপহরণ করলে তার পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা সম্ভব হবে ভেবে তারা রাফিজকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাফিজকে মোবাইলফোনে ডেকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের জনৈক মজিদের জমি-সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইলফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে ওই কিশোরের পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে লাল্টুসহ অন্যরা ওই কিশোরকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে যায় তারা। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের পরও লাল্টু একাধিকবার মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া আসামির দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের লাল ব্রিজ মাঠ-সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমি-সংলগ্ন খাল থেকে রাফিজ মিয়ার পঁচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া লাল্টুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর