নেত্রকোনা: নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে (৪১) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এ. কে. এম. এমদাদুল হক এ রায় দেন।
উক্ত মামলার আসামি শফিকুল ইসলামের বাবা তোরাব আলী ও মা সখিনা খাতুনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
সাজা প্রাপ্ত আসামি শফিকুল ইসলাম কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার (২৬) জেলার বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৭ বছর আগে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে পারভীন আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দু’টি ছেলে সন্তান হয়েছে। বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই শফিকুল ইসলাম তার বাবা-মায়ের সহযোগিতায় যৌতুকের দাবিতে পারভীনের ওপর বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।
২০১৯ সালের ২৫ মার্চ আসামি শফিকুল তার স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পারভীন টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পারভীন বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে সালিস-বৈঠকের মাধ্যমে পারভীনকে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
কিন্তু অত্যাচার থামেনি, যৌতুক দাবিতে বার বার মারধর করেন শফিকুল। পরে গত ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পারভীনকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করেন তিনি। নিহতের ভাই মো. আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী শফিকুল ইসলাম, শ্বশুর তোরাব আলী এবং শাশুড়ি সখিনা খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল কবির রুবেল বলেন, ‘২০১৯ সালের একটি মামলায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে শফিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।’