বান্দরবান: বান্দরবানের লামা উপজেলায় শিশু আরাফাত হোসেনকে (৯) ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার ১১ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে লামা থানা পুলিশ।
গ্রেফতার আসামির নাম মো. আবদুল কুদ্দুচ। তিনি লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি করাতকলের দেখাশোনা করতেন এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকার বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নানী ভিকটিমের গলায় থাকা রশি আগুনে পুড়িয়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এ ঘটনায় শুরুতে লামা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ডিএনএ পরীক্ষায় নিহতের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। সেসময় বান্দরবান জেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. আবু হেনা মো. সাইফুদ্দীন খালেদ জানান, শিশুটির মৃত্যু ধর্ষণের পর শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়।
মামলাটির তদন্তকারী অফিসার এসআই মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘ ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুচ ভিকটিমের নানী জুলেখা বেগমকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন এবং সন্দেহজনক আচরণ শুরু করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি টের পেয়ে আসামি তার অটোরিকশাটি স্থানীয় হাফিজ মেম্বারের গ্যারেজে রেখে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে যান।’
পরে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লামা থানার ওসি মোহাম্মদ কাইছার হামিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে কুদ্দুচকে গ্রেফতার করে।
লামা থানার এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেন যে তিনি শিশু আরাফাত হোসেনকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এবং মৃতদেহ মাচার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।