Tuesday 25 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস খামেনির সুরক্ষিত বাসভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৪ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৪

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সুরক্ষিত বাসভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা ইরানের র্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে।

স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

এ সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছাকাছি এবং খামেনির কমপাউন্ডের আশেপাশে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এপি জানিয়েছে, হামলা খামেনির অফিসের আশেপাশেও লক্ষ্যভেদ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে খামেনি কোথায় আছেন তা নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, খামেনি তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন।

এদিকে ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের হামলায় স্কুলটির অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ৮৬ বছর বয়সী একজন ইসলামি পণ্ডিত। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির পর পদটি গ্রহণ করেন। খামেনির হাতে দেশটির সকল শাসন, সেনা ও বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা আছে। তিনি দেশের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

খামেনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধে রয়েছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ইরানের প্রধান শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ইসরায়েলকেও শীর্ষ শত্রুর মধ্যে গণ্য করেন। তার ক্ষমতা মূলত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী প্রহরী বাহিনী (আইআরজিসি) এবং বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আগে থেকেই খামেনিকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, খামেনিকে নিশানায় রাখা বিষয়টি তারা বাদ দেননি।

ট্রাম্পও বিভিন্ন সময় খামেনিকে সতর্ক করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খামেনিকে ‘খুব উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত। এছাড়া তিনি ইরানের সরকার পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেছেন। ২০২২ সালে হামলা চালানোর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, খামেনি সহজলভ্য লক্ষ্য, কিন্তু তিনি ‘নিরাপদ’ অবস্থায় আছেন।

সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য মূলত ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ‘উৎখাত’ করা। আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাসেম বলেন, এই আক্রমণ মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে। তবে সফলতা কতটুকু হয়েছে তা এখন বলা যাচ্ছে না।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর