রংপুর: মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন এক করুণ তথ্য উঠে এসেছে। হত্যার শিকার আগামী চক্রবর্তীর জন্য স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পার্সেল এসেছিল। কিন্তু ডেলিভারি পারসন বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুনলেন—গ্রাহক সপরিবারে নিহত হয়েছেন ।
স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ‘আগামী চক্রবর্তীর একটি পার্সেল ছিল ডেলিভারির জন্য, আমাদের কাছে। সৃষ্টিকর্তা তাদের শান্তিতে রাখুন।’
পরে ডেলিভারি পারসন কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইটে ফিডব্যাক লিখেন— ‘কাস্টমার সপরিবারে নিহত হয়েছেন।’
আগামী চক্রবর্তী (২৩) রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন । তার বিয়ের তারিখও চূড়ান্ত হয়েছিল । তার হবু স্বামী অদিত কর কয়েকদিন আগেই আবেগঘন বার্তায় লিখেছিলেন— ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।’
আগামীর পরিবারের নিহত অন্যরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তার বাবা গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার মা প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও ভাই প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় নগরীর মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । স্বজনদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে পরিবারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) পাশের নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিল । গণপতি তাদের বাধা দিলে তারা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে গণপতি, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যা করে। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে কারাগারে আছেন।