রংপুর: নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে নিহত হয়েছেন আগামী চক্রবর্তী (২৩)। বিয়ের মাত্র কয়েকদিন বাকি ছিল তার। এদিকে আগামীকে হারিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অদিত কর। এই অদিতের সঙ্গেই তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ ফেসবুক পেজে আগামী ও অদিতের একটি ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।’
অদিত তার পোস্টে আরও লিখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেলো। এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন—আমরা তো কখনও কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।’
দুই পরিবারে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অদিত করের সঙ্গে রংপুর কারমাইকেল কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আগামীর বিয়ের তারিখ এরই মধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আগেই থেমে গেল আগামীর জীবন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর (২৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
অদিতের শোকবার্তা ছুঁয়ে গেছে সবাইকে
অদিতের বার্তা পোস্ট হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়েছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা অদিতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অদিতের এক বন্ধু জানিয়েছেন, ‘অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন (ট্রমাটাইজড)। তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো বুঝতেছি না। কদিন আগে অদিতের বাবা মারা গেছেন। এখন হবু স্ত্রী মারা গেলেন।’
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
স্বজনদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবন করছিল। সেখানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
ময়নাতদন্তের ফল
ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়েছে, নিহতদের মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো রাসায়নিক পদার্থ বা এসিড ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পচনের কারণেই মুখমণ্ডল ঝলসানোর মতো দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে কারাগারে আছেন।