Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সহকর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, বাধ্যতামূলক অবসরে প্রধান শিক্ষক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৪ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৫২ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৫৫

প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া।

শরীয়তপুর: জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও অসদাচরণের অভিযোগে ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিভাগীয় আদেশে বলা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং অভিযুক্তের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা যায়, ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগগুলো অসদাচরণ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী তার বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ কার্যকর করা হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বিভাগীয় নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সখিপুরের ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সাবেক স্ত্রী শাহানাজের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অনৈতিক সম্পর্ক ও অশ্লীল ইমু চ্যাটিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি পরবর্তীতে শিক্ষা বিভাগের নজরে এলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষককে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এর জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তার জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক হয়নি। পরে সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া বলেন, ‘বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে আপনাদের জানাব।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। এরইমধ্যে চিঠিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।’