চট্টগ্রাম: চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার কমেছে, একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২.০৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ।
এদিকে, ২০২৫ সালে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৭১.৯৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে হয়েছে ৫৮.৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৭২.১৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬০.০৩ শতাংশে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২.৫৭ শতাংশ, ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ৮৪. ৪১ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫৫.২ শতাংশ থেকে কমে ৩৮.৭৯ শতাংশে নেমেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৩.৫৪ শতাংশ থেকে কমে পাসের হার হয়েছে ৬০.১২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। ২০২৫ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১.৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৭৪.৩৩ শতাংশ।
চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১.২৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭.১৩ শতাংশ। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার পাশের হার ৭৪.৯০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৩ শতাংশে।
বোর্ডের অধীন জেলাভিত্তিক ফলাফলেও অবনতি হয়েছে। কক্সবাজারে পাসের হার ৭০.৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৫৭.৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে ৫৬.৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১.১৭ শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে ৬০.৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪.৯৯ শতাংশ হয়েছে। বান্দরবানে পাসের হার ৬৩.১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭.৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫টি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। সাধারণত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর আজ ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হয়েছে।