Monday 10 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ক্যারিয়ার গড়তে বাধা দিচ্ছেন স্বামী?

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৩০

চোখের কোণে জমতে থাকা একফোঁটা জল লুকিয়ে যখন আপনি ঘরের ধুলো মুছছেন, তখন হয়তো আপনার স্বপ্নের সনদপত্রগুলো আলমারির এক কোণে ধুলো জমছে। ভালোবাসার মানুষের জন্য সংসার সাজাতে এসে নিজের অস্তিত্বটাই যদি হারিয়ে যেতে বসে, তবে বুকের গহীনে একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব হওয়াটাই স্বাভাবিক। সংসারের হাজারো ব্যস্ততায় ঘেরা চার দেয়ালে বন্দী হয়ে কত নারী প্রতিদিন নিজের মেধা ও ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নকে বিসর্জন দিচ্ছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব আমাদের সমাজে পাওয়া যায় না। ভালোবাসার সম্পর্ক যদি কেবলই ত্যাগ আর নিজের স্বকীয়তা হারানোর নামান্তর হয়, তবে সেখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখা সত্যিই এক বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

ভালোবাসার আড়ালে চাপা পড়া নিজস্ব স্বপ্ন

অনেক সময় দেখা যায় যে স্বামী তার স্ত্রীকে সরাসরি কোনো কাজে বাধা দিচ্ছেন না, কিন্তু কৌশলে সংসারের দায়িত্বের এমন এক বিশাল পাহাড় কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছেন যেন নিজের জন্য কোনো আলাদা সময় না থাকে। নিজের কাজ কিংবা ছোটখাটো ব্যক্তিগত প্রয়োজনের খাতিরে স্ত্রীকে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত রেখে তার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটিকে মনস্তত্ত্বের ভাষায় এক ধরনের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ বলা হয়ে থাকে। সঙ্গী হয়তো ভাবছেন সংসারের এই ব্যস্ততাই আপনার মূল দায়িত্ব, কিন্তু এর আড়ালে আপনার ভেতরের অদম্য সম্ভাবনাগুলো যে প্রতিদিন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, তা অনেক সময় আলোচনার বাইরেই থেকে যায়।

শান্ত মাথায় খোলামেলা আলোচনার গুরুত্ব

এমন পরিস্থিতিতে রাগের মাথায় ঝগড়া কিংবা তিক্ততা না বাড়িয়ে প্রথমে অত্যন্ত শান্তভাবে কথা বলা প্রয়োজন। স্বামীকে বুঝিয়ে বলুন যে আপনি কেবল একজন গৃহিণী বা কারো সঙ্গী হিসেবে পরিচিত হতে চান না, বরং নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গঠন করতে চান। তাকে স্পষ্টভাবে জানান যে আপনার ক্যারিয়ার গড়ার এই ইচ্ছা সংসারের প্রতি কোনো অবহেলা বা অনাগ্রহ তৈরি করবে না, বরং আপনার আত্মতৃপ্তি পুরো পরিবারকেই আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তুলবে। আপনার কাজের ইচ্ছা যে আপনার ভালোবাসাকে কমিয়ে দিচ্ছে না, এই আশ্বাসটুকু খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক।

কাজের সময়সীমা এবং নিজস্ব সময়ের সীমানা নির্ধারণ

সংসার এবং ক্যারিয়ার দুটি বিষয়কে একসাথে এগিয়ে নিতে হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় কেবল নিজের পড়াশোনা বা কাজের জন্য আলাদা করে রাখুন এবং সেই সময়ে সংসারের অন্য কোনো ছোটখাটো আবদার বা অতিরিক্ত কাজের চাপ এড়িয়ে চলুন। ঘরের দৈনন্দিন কাজগুলোতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নিন অথবা সম্ভব হলে গৃহস্থালি কাজের জন্য সহায়তা করার মতো মানুষের সাহায্য নিন। নিজের সময়ের ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা শিখতে হবে, কারণ আপনি নিজে উদ্যোগ না নিলে অন্য কেউ আপনাকে সেই মূল্যবান সময়টুকু বের করে দেবে না।

ছোট পদক্ষেপে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার কৌশল

একবারে বড় কোনো পদক্ষেপে না গিয়ে ছোট ছোট অনলাইন কোর্স বা ফ্রিল্যান্স কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা আবার নতুন করে শানিয়ে নিতে পারেন। যখন আপনি নিজের অর্জিত দক্ষতা বা আয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করবেন, তখন আপনার ভেতরের আত্মবিশ্বাস যেমন বহুগুণে বেড়ে যাবে, তেমনি ধীরে ধীরে পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গিতেও এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ছোট এই সাফল্যগুলো আপনার স্বামীকে বুঝিয়ে দিতে সাহায্য করবে যে আপনি সংসার সামলেও নিজের স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার সমান তালে গড়ে তুলতে পুরোপুরি সক্ষম।

নিজের মেধা ও স্বপ্নকে এভাবে চার দেয়ালে ধূলিসাৎ হতে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। দিনশেষে একটি সুন্দর সংসার সেটাই যেখানে দুজনের ভালোবাসার পাশাপাশি দুজনের স্বপ্নগুলোও সমানভাবে ডানা মেলার সুযোগ পায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর