Monday 10 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৩

সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সাতক্ষীরা: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি বলে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক, নৈশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

৪টি প্রতিষ্ঠান হলো- আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (নাইট স্কুল), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন

আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা বলেন, ‘এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মানবিক বিভাগে ৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি ‘

দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের চিত্র আরও নাজুক। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে অনেক শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না।

নূর হোসেন বলেন, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষক থাকলেও তাদের উপস্থিতি নিয়মিত নয়। বর্তমানে একজন শিক্ষিকা ও একজন হুজুর শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকলেও তারাও নিয়মিত সময় দেন না। তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি।’

তবে গত বছরের ফলাফল তুলনামূলক ভালো ছিল বলে জানান নূর হোসেন। তার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিদ্যালয়টির ৫জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন পাস করেছিল। এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরার ৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি, বেতন-ভাতা ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর