ঢাকা: রাজধানীর শাহবাগে জুলাইযোদ্ধা ও এসডিএএফের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, তার স্বামী মোমেন মেহেদীসহ ছয়জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কারাগারে থাকা শান্তা ফারজানাসহ ছয় আসামির জামিন আবেদন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অপর আসামি নূরজাহান নীরার তিন বছরের সন্তান বর্তমানে অভিভাবকহীন থাকায় শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে রাখার আবেদনও করা হয়। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করার পরামর্শ দেন এবং ছয় আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া অন্য আসামিরা হলেন- ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’ এর ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাপ মণ্ডল ও হরী সরকার।
এর আগে, গ্রেফতারের পর গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন বাবুল সরদার।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তারা জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং জুলাইয়ের প্রথম শহিদ আবু সাঈদকে ‘নেশাখোর’ বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী আওয়ামী লীগের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৭টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন। সেখানে এসডিএএফের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা মিছিলের প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ ও চেয়ার নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শান্তা ফারজানা হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের মাথা, মুখ ও দুই হাত রক্তাক্ত জখম করেন।
এ ঘটনায় জুলাইযোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল ও তাওহীদসহ আরও কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী বাবুল সরদারও হামলায় আহত হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আল নূর মোহাম্মদ আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।