ঢাকা: রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকা থেকে ওয়ারীর শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ‘অস্ত্র ও মাদকের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত সজলের ছোটো ভাই সজীবসহ ছয়জনকে চারটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. সজীব (২৮), মো. হিমু (৩২), মো. তুষার (২৫), মো. জয় (২৫), মো. টুটুল (৩৩) ও মো. ইমরান (৩৪)।
মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল খবর পায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অবৈধ মাদক ঢাকায় আনা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ইউটার্ন-সংলগ্ন মুক্তি পেট্রোল পাম্পের সামনে চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৩৬৪৬ নম্বরের একটি সাদা রঙের ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হলেও তাদের দেহ ও গাড়ি তল্লাশি করে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সজীব ও হিমুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি কক্ষের খাটের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আটক সজীবকে ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের কারবারি হিসেবে পরিচিত সজলের ছোটো ভাই হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২ মার্চ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা হয়। তদন্তে তিনজনকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।’
ফারুক হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানা যায়, ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সজল সরবরাহ করেছিলেন। এরপর গত ১৮ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে আটক করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে দু’টি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা ও চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।