Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রামুতে বাঁকখালীর গ্রাসে বিলীন বসতভিটা, খোলা আকাশের নিচে ভুক্তভোগীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৩

বাঁকখালী নদীর ভাঙন। পুরোনো ছবি।

কক্সবাজার: গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বোমাংখিল গ্রামে ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁকখালী নদীর করাল গ্রাসে এরইমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি পরিবারের শেষ সম্বল বসতভিটা। ভাঙনের মুখে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়ি। তবে ভাঙন শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এমনকি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজে এসে এলাকা পরিদর্শন করার কথা থাকলেও, এখনো তিনি ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে নদীর পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পূর্ব বোমাংখিল গ্রামে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব ও শামসুল আলমের বসতবাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষের আর্তনাদে ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আবু তালেব ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি গরীব ঘরের সন্তান। অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটি বানিয়েছিলাম। আমার একমাত্র থাকার জায়গাটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সরকারিভাবে এখনো আমাদের জন্য কোনো উদ্যোগ বা সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা এখন কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’

একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী শামসুল আলম বলেন, ‘আমার বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের এখন থাকার মতো কোনো স্থান নেই। আপাতত এক আত্মীয়ের বাড়িতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়ে আছি। সরকারের কাছে জোর আকুতি জানাচ্ছি, আমাদের যেন দ্রুত থাকার একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আতিক বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আমার চোখের সামনে বেশ কয়েকটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখনো সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ব বোমাংখিলসহ অধিকাংশ জায়গার গ্রামের নদীভাঙনের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এরইমধ্যে আমাদের একটি টিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এসেছে। আশা করছি, ভাঙন রোধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর