কক্সবাজার: টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলার প্রধান সড়ক ও অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুজ্জামান বলেন, ‘কচ্ছপিয়া ও পাশের গর্জনিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার মধ্যে আটকে পড়েছেন। সড়ক ও বাড়িঘর পানির নিচে থাকায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ও বাজারঘাটও বন্ধ থাকায় সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।’
গর্জনিয়া এলাকার বাসিন্দা আতিক বলেন, ‘টানা ভারী বৃষ্টিতে বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে নদীতীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর এরইমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।’
রামুর নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা ও ভেলা।
বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে তারা ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাদ্যসামগ্রী সরানোর সুযোগ পাননি। চুলা জ্বালাতে না পারায় তীব্র খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তবে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা ও শুকনো খাবার বিতরণ প্রয়োজন; না হলে পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।