ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বলে জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এমপি।
তিনি বলেন, সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যেই জুলাইয়ের এক দফা ঘোষণা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ছিল শিক্ষার্থীদের একটি সম্পূর্ণ ন্যায্য আন্দোলন। কিন্তু সেই দাবিও যখন মেনে নেওয়া হয়নি এবং উল্টো আন্দোলনকারীদের অপমানজনক আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তখন শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই মূলত এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসার শিক্ষার্থী, সাধারণ শ্রমিক, পেশাজীবী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আন্দোলনের সঙ্গে পুরোপুরি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো কঠোর কর্মসূচিও সে সময় প্রবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন করেছিলেন এবং এভাবেই জুলাই একটি সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব বলেন, জুলাই আমাদের কাছে শুধুমাত্র ক্ষমতা থেকে সরানোর উপলক্ষ্য ছিল না। বরং তৈরি করা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি অর্জনই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য এবং জুলাই আমাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পথ দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে এবং জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু পরে সেই জনমতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি ইতিবাচক বলে আখতার হোসেন আরও বলেন। তবে জনগণ এর আগেই গণভোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত মতামত জানিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের রায়কে আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা দেশের জন্য শুভ হবে না। নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন জুলাই গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে, তা বাস্তবে বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনুষ্ঠানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।