কুমিল্লা: কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধ হওয়ার আলোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন এবং ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) ভোরে লক্ষ্মীপুর জেলার একটি এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অপুকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, অপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৫টি মামলা রয়েছে।
জেলা ডিবি সূত্র জানায়, গত ২৪ জুন রাতে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরদিন দুপুরে সেই বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ের সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম টিফিনের বিরতিতে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পর ইথানের বাবা ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে অপু, সাব্বিরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ডিবি ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
এর আগে ঘটনায় জড়িত জামসেদ হোসেন শ্রাবণকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় আসিফ, আশিক ও ইমনকেও আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অপু আত্মগোপনে চলে যান এবং গ্রেফতার এড়াতে প্রতিনিয়ত অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে লক্ষ্মীপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান জানালে কুমিল্লার জগন্নাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম শাহ্ জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।