Saturday 27 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কৃষিজমি দখলপূর্বক মাছের ঘের করার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৬ ১৬:২৪ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৬:৩৯

দখলের অভিযোগ ওঠা জমিতে কাটা হচ্ছে ঘের।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ একর তিন ফসলি কৃষিজমি দখল করে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। জমি দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকজন কৃষককে হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্ত নেতা দাবি করেছেন, কৃষকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ঘের করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত রোকন সরদার সদর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই জমি দখলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আংগারিয়া ইউনিয়নের সিংগাইর গ্রামের ফুটবল মাঠ-সংলগ্ন বিলে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রায় ৫০ একর জমির চারপাশে ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর করে খনন করে মাছের ঘের তৈরির কাজ চলছে। দিনরাত ১০ থেকে ১২টি ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চালানো হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, জোর করে জমির চারপাশ খনন করে ঘের তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘেরের ভেতরে থাকা ধানগাছও অপসারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘ঘের প্রকল্পের মাঝখানে আমার আধা কানি জমি পড়েছে। অনেক কষ্ট করে জমিতে ধান রোপণ করেছি। মাছের ঘেরের জমি দিইনি বলে রোকন সরদার ও তার লোকজন জোর করে মাটি কেটে আমাদের জমিতে পুকুর খনন করছে। আমরা ফসল করে খেতে চাই, মাছের ঘের করতে চাই না। যারা এই কাজ করেছে তাদের বিচার চাই।’

কৃষক ওমর ফারুক বলেন, ‘ধার-দেনা করেন ধান লাগিয়েছি। এই জমির ধান দিয়েই আমাদের সারাবছরের ভরণপোষণ চলে। সেই জমিতে জোর করে ঘের বানাচ্ছে। আমরা জমি দিইনি বলে রোকন সরদার আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা আমাদের জমিতে ঘের করতে দিব না।’

ভুক্তভোগী মিলন মিয়া বলেন, ‘এই ঘেরের পাশে আমার কৃষি জমি। এখানে বাঁধ দিলে আমাদের জমিগুলোতে সারাবছর পানি আটকে থাকবে; এতে আমাদের কৃষিকাজে বাঁধা সৃষ্টি হবে। আমরা একাধিকবার তাদের বলেছি, কিন্তু আমাদের কথা শুনে না। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’

অভিযুক্ত রোকন সরদার বলেন, ‘জোরপূর্বক নয়, কৃষকদের কাছ থেকে লিজের মাধ্যমে জমি নিয়ে ঘের করা হচ্ছে। এখানে বেশিরভাগ কৃষক এই ঘেরের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এগুলো প্রশাসন জানে, নিউজ করে লাভ নেই। আপনি বিকেলে এসে দেখা করেন।’

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘যে অভিযোগটি পেয়েছি সেটি অত্যন্ত গুরুতর। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনিকভাবে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, নেব। এখানে দুস্কৃতকারী যারা রয়েছে, যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর