ঢাকা: রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলা।
‘পাহাড়ি ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ’ প্রতিপাদ্যে শনিবার (২৭ জুন) শুরু হওয়া এই মেলা সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

– ছবি : সারাবাংলা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রতিবছর এ অঞ্চলের জন্য প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়নের কারণে উন্নয়নের গতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায় নি- বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, পার্বত্য এলাকায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি নির্বিশেষে সবার জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে মাল্টিপারপাস ডরমিটরি, নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্টারলিংকভিত্তিক ই-লার্নিং সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় পরিবেশবান্ধব মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, আধুনিক সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা, কফি চাষ সম্প্রসারণ এবং জুমচাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া রাঙ্গামাটিতে একটি বিকেএসপি, তিন পার্বত্য জেলা শহরে মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স, তথ্যকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ইকোট্যুরিজম, হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থাপনা চালুর কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।