হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
গতকাল শুক্রবার রাতে মব করে ডা. নাসির ইসলামের ওপর কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে আজ শনিবার (১৬ মে) তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ওই চিকিৎসককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ভর্তিরত চিকিৎসককে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

ঢামেকে এসে ডা. নাসির ইসলামকে দেখা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
পরে সাংবাদিকদের কামরুজ্জামান বলেন, ডা. নাসির শরিয়তপুর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাতে সেখানে এক রোগী বুকের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসে। সেই রোগীকে ট্রিটমেন্ট দেয়। পরে রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে রেফার্ড করেন। তবে রোগীর স্বজনরা ঢাকায় নেবেন না, সেখানেই চিকিৎসা করাতে বলে। এরপর চিকিৎসাধীন রোগীটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মারা গেছে বলে ডা. নাসিরকে মারধর করে। তখন ডা. নাসির হাসপাতালের বাথরুমে পালায়। সেখান থেকে তাকে ধরে রাস্তায় নিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে রাতে সেখানেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছে। ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জনরা তাকে দেখছেন। আশা করি দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে কাজে ফিরে যাবেন।
সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সকল আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ঘটনায় মামালা হয়েছে। ২ জন গ্রেফতার হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হানকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমাদের কোনো চিকিৎসকের জীবনের হুমকি হবে না, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের যে উদ্যোগ, এতে আমি মনে করি না যে কোনো চিকিৎসকের হুমকি রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান বলেন, ‘একটা হুমকি আসছে, এটাকে আমি গুরুত্বই দিইনি। কারণ, এটা নামবিহীন একটা চিঠি। এগুলো আমলে নিলে তো আমরা কাজ করতে পারব না। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আমার মন্ত্রণালয় ও আমার হাসপাতালকে বিষয়টি জানানো আছে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক ডা. আশরাফুল আলম।