Saturday 16 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরাজগঞ্জে রক্তমাখা চিঠিতে ডাকাতির হুমকি, আতঙ্কে খামারিরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ মে ২০২৬ ২১:৪৪

রক্তমাখা চিঠি।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে গরুর খামারিদের বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত পাঁচদিনে অন্তত ১৫টি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ছড়িয়েছে। চিঠিতে ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে এবং তা অমান্য করলে ‘জিন্দা লাশ’ বানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গ্রামজুড়ে গরু মোটাতাজাকরণের ব্যস্ত সময় চললেও এখন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন খামারিরা। সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামজুড়ে নেমে আসে ভূতুড়ে নীরবতা। নিরাপত্তাহীনতায় শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আমরা বিষয়টিকে কেউ মজা করছে বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু একের পর এক বাড়িতে একই ধরনের রক্তমাখা চিঠি পৌঁছানোর পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। রাতে পরিবারের কেউ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শাহাদত হোসেন বলেন, ‘চিঠিতে সরাসরি ডাকাতির কথা বলা হয়েছে। দরজা বন্ধ রাখলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। গ্রামের মানুষ এখন পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছে, তারপরও ভয় কাটছে না।’

গ্রামের বাসিন্দা ও প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুন বলেন, ‘রাতে গরু চুরির চেষ্টা টের পেয়ে আমি চিৎকার করলে লোকজন চলে আসে। পরে সকালে দেখি ঘরের ভেতরে আমাকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়ে চিঠি রেখে গেছে। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে কয়েকটি বাড়িতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে। খামারি আবু হোসেনের বাড়ি থেকে একটি গরু চুরি এবং আমজাদ হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়িতে এসে দেখি স্ত্রী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘরে ঢুকতেই স্প্রের গন্ধে আমিও অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে গভীর রাতে উঠে দেখি আলমারির লকার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও রূপাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।’

টেকুয়াপাড়া মিলন সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার এমন হুমকিমূলক চিঠি পেয়েছে। আমরা ক্লাবের ছেলেদের নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। কিন্তু তারপরও চুরি ও আতঙ্ক থামছে না। গ্রামের মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চিঠি দেওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে কাজ চলছে। এরইমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।’

এদিকে ক্রমবর্ধমান চুরি, ডাকাতির হুমকি ও রক্তমাখা চিঠির ঘটনায় পুরো টেকুয়াপাড়া গ্রামজুড়ে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর