রংপুর: রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় আইসোলেশন বিভাগে আবু হুজাইফা (৫ মাস) নামের ওই শিশু শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। এর আগে গত ২৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে হাসপাতালের হাম চিকিৎসা বিশেষ কমিটির ফোকালপারসন ডা. আনম তানভীর চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এর আগে ঠাকুরগাঁও সদরের নয় মাসের শিশু মনি আক্তার, নীলফামারীর ডিমলার ১১ মাস বয়সী জুনাইদ, লালমনিরহাটের হারহাটি গ্রামের নয় মাসের শিশু হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের ২২ মাসের শিশু জাকির ও লালমনিরহাট সদরের সাত মাস বয়সী তানজিদ ইসলাম তামিম নামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে আসা ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬০ জনের দেহে হাম ও ছয়জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, নীলফামারীতে ১০ জন, রংপুরে পাঁচ জন, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন জন, পঞ্চগড়ে দুই জন, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে চার জন করে এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় একজন করে শিশু রয়েছে ।
গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন। এ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪০৩ জন হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৩৩৩ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭০ জন, যার মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন ২২ জন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি। মাঠকর্মীরাও কাজ করছেন। উপসর্গ দেখা মাত্রই হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এই বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনো ভালো আছে। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা বলা যাচ্ছে না।’