Thursday 21 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি নিহতের ঘটনায় পালটাপালটি মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২৬ ২২:২৬

কাঁকড়া শিকারি আমিনুর রহমান (ডানে)।

খুলনা: পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক বনজীবী জেলের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন উপকূলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নিহত আমিনুর ও বনবিভাগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনায় বন বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে নিহতের পরিবার। বুধবার (২০ মে) নিহতের ভাতিজা অলিউল্যাহ বাদী হয়ে কয়রা থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন মো. শাহ আলম।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল কয়রা থানার আওতাধীন হওয়ায় নিহতের স্বজনরা সেখানে এসে মামলা করেছেন। মামলায় বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়,  সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর রহমান বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করতেন। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন। প্রায় ১৫ দিন আগেও আমিনুরের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এ নিয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয় এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, ১৩ মে ভাতিজা অলিউল্যাহসহ কয়েকজনকে নিয়ে সুন্দরবনে যান আমিনুর। ১৮ মে সকাল ৭টার দিকে কয়রার আওতাধীন পাতকোষ্টা এলাকার বেশো খালে মাছ ধরার সময় বন বিভাগের একটি টহল দল সেখানে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, এসময় নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন আমিনুরের কাছে টাকা দাবি করেন। তিনি রাজি না হলে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন রাইফেল দিয়ে গুলি করলে তা আমিনুরের শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি নৌকায় লুটিয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে গুলি করার অভিযোগ সঠিক নয়।

তার দাবি, ঘটনাস্থলটি ছিল সুন্দরবনের প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকা। ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত সেখানে পশ্চিম বন বিভাগের অধীনে একটি ‘স্মার্ট টহল টিম’ দায়িত্ব পালন করছিল। কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১টি নৌকা জব্দ করা হয়, যার বেশিরভাগই শ্যামনগরের সোরা গ্রামের বলে জানান তিনি। অতীতেও ওই এলাকার কিছু লোক সংঘবদ্ধভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ ও বনরক্ষীদের ওপর চড়াও হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে। বন বিভাগের শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্মার্ট টহল টিমের নেতা মোক্তাদির রহমান মামলাটি করেন।

মোক্তাদির রহমান বলেন, বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, বনরক্ষীদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কমিটিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের কর্মকর্তা এবং অন্যটিতে খুলনা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর