বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবনের ‘ছোটো সুমন বাহিনী’র প্রধান দস্যু সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ সাতজন অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় মোংলা কোস্ট গার্ড বেইজে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে তারা। এ সময় তারা তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুইটি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দিয়েছেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। এদের মধ্যে ছয়জন বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার এবং মাহফুজ মল্লিক একই জেলার রামপাল উপজেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
আত্মসমর্পণ করা ছোটো সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, ‘এর আগেও ২০১৭ সালে একবার আত্মসমর্পণ করেছিলাম। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে পুনরায় দস্যুতায় ফিরে যাই। প্রশাসনের আশ্বাসে পুনরায় আত্মসমর্পণ করেছি। যদি প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসব।’
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে; যার ফলে সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ছোটো সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যারা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে, তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে। যারা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসবে না, তাদেরকে আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আজ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও দুইটি ওয়াকিটকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।’
এছাড়া কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকৃতদের প্রথমে আদালতের মাধ্যমে কারাভোগ করতে হবে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাভোগ শেষে জেলাখানা থেকে বের হয়ে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।