চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সড়কে অবস্থান নিতে এবং পুলিশের গাড়িতে আগুর দিতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে স্থানীয় একটি মাদরাসায় আটকে রাখে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মনি। সে স্থানীয় একটি ডেকোরেটরে কাজ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় গুলিতে চার জন আহত হয়। সংবাদ লাইভ করতে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে আহত হন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। এর মধ্যে নোবেল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তার হাত ও পায়ে আঘাত লেগেছে। অন্যদিকে মামুন আবদুল্লাহর কোমর ও পায়ে আঘাত লাগে।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পরই পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। শিশুটিকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।’