বাগেরহাট: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও ছয় জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোররাতে সুন্দরবনের ছাপড়াখালী এলাকার নদী থেকে ওই ছয় জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৮ জন জেলে জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলার রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোররাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালী এলাকার নদীতে মাছ ধরা অবস্থায় জেলেদের নৌকা ও ট্রলারে হামলা করে ছয় জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী।’
অপহৃত জেলেরা হচ্ছে শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের হাফিজুল (২৪), ফাইজুর (২০), বেল্লাল মীর (৩৫) ও সোলেমান (৪০), পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের হাসিব (২১) এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজন। এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে সুন্দরবনের ফুসফুসেরচর এলাকা থেকে ১২ জেলে অপহৃত হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, বুধবার দিবাগত রাতে ছাপড়াখালী এলাকায় ছয় জেলে অপহরণের খবর তারা পেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, সুন্দরবনে জেলে ও মৌয়ালদের কাছে এখন মূর্তিমান আতংকের নাম জাহাঙ্গীর বাহিনী। জাহাঙ্গীর বাহিনী বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবনে জেলেদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বনদস্যুদের কারণে এ বছর সুন্দরবনে মধু ও মাছের রাজস্ব আয় কমে গেছে। দস্যুদের ভয়ে অনেকেই মধু আহরণ ও মাছ ধরতে সুন্দরবনে যায়নি বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, সুন্দরবনে ছয় জেলে অপহরণের খবর তার জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।