Monday 06 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রতিমন্ত্রীর চিঠি / ১৭ দিনের মাথায় সদরঘাট থানার ওসি প্রত্যাহার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জুলাই ২০২৬ ০০:৪১

সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে যোগদানের ১৭ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এ আদেশ দেন। আদেশে তাকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি দেন।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ওই অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞাপন

চিঠির সূত্র হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো ডিও পত্রের উল্লেখ করা হয়। সেই চিঠি সিএমপিতে পৌঁছানোর পর ওসি মুহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তে মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সদরঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একজন উপপুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

গত ১৮ জুন সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শকের পদ থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হন। এর আগে তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় থাকা অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই ছবি দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে’ তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

সারাবাংলা/এসএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর