রংপুর: ভারতে পাচার ঠেকাতে রংপুর বিভাগের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত এক মাসে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৩১৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রংপুর বিজিবি সেক্টর সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া তেলের মধ্যে ১ হাজার ১৩৫ লিটার ডিজেল এবং ১৮০ লিটার পেট্রোল রয়েছে। এসব তেল পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
রংপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল শফিক বলেন, ‘বুড়িমারী, সোনারহাটসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল পাচার রোধে নজরদারি জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন, বিশেষ টহল এবং সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থলবন্দর দিয়ে যেসব যানবাহন আসছে তার সবগুলোই আমরা তল্লাশি করছি। তেলের ট্যাংকও চেক করা হচ্ছে।’
উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেল পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভারতে পাচার হওয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সীমান্তবর্তী মানুষ পাচারের চেয়ে মজুত রাখতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়েছে। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে কেউ পাচারের সাহস পাবে না।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও মজুত ঠেকাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশের নয়টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। রংপুর বিভাগের তিনটি ডিপোতেও টানা চতুর্থ সপ্তাহে তদারকি চলছে।
বিজিবি সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নদী ও স্থলপথে টহল জোরদারের পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন এবং আমদানি-রফতানির সঙ্গে জড়িত যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৩ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় নদীপথে ৩ হাজার ৩৬০ লিটার ডিজেল পাচারের সময় দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৭ ব্যারেল ডিজেল ও একটি নৌকা জব্দ করা হয়, যার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, বাংলাদেশে ডিজেলের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় পাচারের প্রবণতা বাড়ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে ডিজেলের দৈনিক বিক্রি ৯-১০ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। এতে পাচারের ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, জ্বালানি তেল পাচার রোধে ভবিষ্যতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।