Wednesday 29 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে আলাদা এপিবিএন জরুরি— পুলিশ সপ্তাহে আসছে প্রস্তাব

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৭

বাংলাদেশ পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) লোগো। ফাইল ছবি

ঢাকা: উত্তরবঙ্গের আট জেলা নিয়ে গঠিত রংপুর বিভাগ। এই বিভাগের বেশিরভাগ জেলা সীমান্তবর্তী। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত থাকায় এই বিভাগে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচারসহ বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। অনেক সময় আইন‍শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অপরাধীদের সঙ্গে পেরে ওঠে না। ফলে মাঝে-মধ্যে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নামানো হয়। যে কারণে রংপুর বিভাগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ইউনিট স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

আসছে মে মাসের ১০ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহ বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ হওয়ায় অনেক কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। কারণ, নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ হবে। সরকারও চাইবে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে। যাতে আগামীতে সরকার পরিচালনায় তেমন বেগ পেতে না হয়।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, রংপুর বিভাগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ইউনিট স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। এপিবিএন ইউনিট স্থাপনের দাবির পেছনের যুক্তিগুলো হলো- ১. রংপুর বিভাগের আট জেলায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন। ২. সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার রোধে এপিবিএনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ৩. রংপুর ও রাজশাহী মহানগর এলাকার কৌশলগত স্থানগুলোতে এপিবিএনের স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। ৪. বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা উগ্রবাদী হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও এপিবিএনের উপস্থিতি জরুরি।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘রংপুরের নিরাপত্তার জন্য এপিবিএন স্থাপন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। রংপুর সহজ-সরল মানুষগুলোও চায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ। রংপুরের লোকজন একটু সরলমনা। তারা চায়, সবাই যেন নিরাপদে কাজ-কর্ম করে খেতে পারে। চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে বড় ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রংপুরের মানুষ দাঙ্গা পুলিশ নামে চেনে এই বাহিনীকে। কাজেই দাঙ্গা পুলিশ নামলে সবকিছু ঠান্ডা হয়ে যায়- এমনটাই মনে করে রংপুর অঞ্চলের মানুষ।’

রংপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা সারাবাংলাকে বলেন, ‘রংপুরে এপিবিএন প্রতিষ্ঠার জন্য এর আগে আমরা কাজ করেছি। তবে সফলতা পাইনি। এবার সুর উঠেছে, যদি হয় তাহলে খুব ভালো হবে। রংপুর অঞ্চলে এরকম একটি বাহিনীর ইউনিট স্থাপন হলে এটি আশার আলো জাগাবে।’

রংপুরের আরেক রাজনীতিক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবীবুন নবী খান সোহেল বলেন, ‘রংপুরে এপিবিএন ইউনিট স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। সবাই নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও বসবাস করতে পারবে।’

ত্রাণ ও দুযোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, ‘উত্তবঙ্গের আট জেলার মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দরকার আছে।’ যদিও তিনি বিষয়টি জানেন না যে, এবারই এপিবিএন স্থাপন হবে কি না। তবে, এটি ওই অঞ্চলের মানুষের দাবি বলেই জানেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদে বিষয়টি উত্থাপিত হলে এর পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে বগুড়াতে রয়েছে এপিবিএন ৪। এর আওতায় রয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলা। তবে, রংপুর বিভাগে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী এপিবিএন ব্যাটালিয়ন থাকলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, রংপুরে এপিবিএন ব্যাটালিয়ন স্থাপন নিয়ে নিয়মিত সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আসছে পুলিশ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে।

তারা আরও জানান, সেখানে আরও অনেক দাবি আসতে পারে। তার মধ্যে রংপুরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রস্তাবটিও রয়েছে। সরকার চাইলে প্রস্তাবটি গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিতে পারে। আবার প্রস্তাবটি গ্রহণ নাও করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে রংপুর বিভাগে এপিবিএন স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে পুলিশ সদর দফতরও।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর