প্রতিদিনের রান্নায় ভাত বসানোর আগে চাল ধুয়ে নেওয়া আমাদের এক চিরন্তন অভ্যাস। সাধারণত চাল ধোয়ার পর বা চাল ভিজিয়ে রাখা ঘোলাটে পানিটুকুকে আমরা মূল্যহীন বর্জ্য মনে করে বেসিনে বা সিঙ্কে ঢেলে ফেলে দিই। কিন্তু আপনি কি জানেন, অবহেলায় ফেলে দেওয়া এই সাধারণ পানিটুকু আসলে গুণের দিক থেকে অনন্য? গৃহস্থালি ও রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মোটেও ফেলে দেওয়ার মতো জিনিস নয়; বরং এটি অনন্য পুষ্টি ও কার্যকারিতায় ভরপুর এক তরল ‘হোয়াইট গোল্ড’ বা শ্বেত সোনা।
রান্নাঘরের এই ফেলনা পানিকে ফেলে না দিয়ে কীভাবে বুদ্ধিমানের মতো দৈনন্দিন নানা কাজে লাগানো যায়, চলুন জেনে নেওয়া যাক…
গাছের জন্য প্রাকৃতিক ‘সুপারফুড’
আপনার বারান্দা বা ছাদবাগানের শখের গাছগুলো কি দিন দিন মলিন ও ঝিমিয়ে পড়ছে? তবে বাজার থেকে কেনা দামি রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে চাল ধোয়া পানি গাছের গোড়ায় দিন। এই পানিতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে, যা মাটির ভেতরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সচল করে তোলে। ফলে গাছ দ্রুত পুষ্টি পায় এবং তরতাজা ও সবুজ হয়ে ওঠে।
ঘর মোছার পরিবেশবান্ধব ঘরোয়া ক্লিনার
বাজারের কড়া রাসায়নিক ও তীব্র গন্ধযুক্ত ফ্লোর ক্লিনার ব্যবহারে অনেক সময় মার্বেল, টাইলস বা কাঠের মেঝের চিরচেনা উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। এর বদলে চাল ধোয়া পানি দিয়ে ঘরের মেঝে মুছে দেখতে পারেন। এটি মেঝেতে জমে থাকা তেল চিটচিটে ভাব ও জেদি ধুলোবালি নিমেষেই পরিষ্কার করে। কোনো রাসায়নিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মেঝে হয়ে উঠবে ঝকঝকে।
বাসনপত্রের পোড়া ও কালচে দাগ দূর করতে
হাঁড়ি-পাতিলে তরকারি বা ভাত পুড়ে গেলে সেই দাগ তুলতে স্ক্রাবার দিয়ে গায়ের জোরে ঘষাঘষি করার দিন শেষ। বাসন মাজার আগে পোড়া পাত্রটিতে বেশ কিছুটা চাল ধোয়া পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এই পানির মৃদু অ্যাসিডিক উপাদান পোড়া দাগকে নরম করে তোলে। এরপর সামান্য ডিশওয়াশ লিকুইড দিয়ে হালকা ঘষলেই বাসনপত্র নতুনের মতো চকচকে হয়ে উঠবে।
জৈব বা কম্পোস্ট সার তৈরির গতিবর্ধক
যারা বাড়িতে রান্নাঘরের বর্জ্য দিয়ে অর্গানিক বা কম্পোস্ট (Compost) সার তৈরি করেন, তাদের জন্য এই তরলটি দারুণ এক বুস্টার। সবজির খোসা ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে সাধারণ পানির বদলে চাল ধোয়া পানি ছিটিয়ে দিলে পচন প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হয়। ফলে খুব কম সময়ে উচ্চমানের পুষ্টিকর জৈব সার তৈরি করা সম্ভব হয়।
একটুখানি সচেতনতা আর সঠিক তথ্য জানা থাকলে আমরা ঘরের অনেক ফেলনা জিনিসকেই দারুণভাবে কাজে লাগাতে পারি। চাল ধোয়া পানির এই বহুমুখী ব্যবহার একদিকে যেমন আমাদের সংসারের খরচ বাঁচায়, অন্যদিকে রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশকে রাখে নিরাপদ। তাই আজ থেকেই চাল ধুয়ে পানি ফেলে দেওয়ার অভ্যাস বদলে ফেলুন।