যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই মসজিদে আসি ঘড়ির কাঁটা ধরে, আর ফরজ নামাজ শেষ হতেই দ্রুত বেরিয়ে যাই। অথচ ইবাদতের এই পবিত্র ঘরের শান্ত পরিবেশে কেবল কিছু সময় বসে থাকার মধ্যেও লুকিয়ে আছে আত্মিক শান্তি ও অশেষ নেকি। নামাজ পড়া ছাড়াও শুধু মসজিদে অবস্থান করা, পরবর্তী নামাজের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা আল্লাহর ঘরে সময় কাটানোর এমন কিছু মহিমান্বিত সুসংবাদ রয়েছে পবিত্র হাদিস শরিফে, যা জানলে মসজিদে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে আপনার জীবনের সেরা প্রাপ্তি মনে হবে।
আসুন জেনে নেই, পবিত্র হাদিস শরিফে মসজিদে অবস্থানকারীদের জন্য কি কি সুসংবাদ রয়েছে…
আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টি ও আনন্দ
কোনো মুমিন বান্দা যখন মসজিদে অবস্থান করে জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকেন, তখন মহান আল্লাহ তার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
‘কোনো মুসলমান যখন নামাজ ও আল্লাহর জিকিরের উদ্দেশ্যে মসজিদকে নিজের বাসস্থান বানিয়ে নেয় (বেশি সময় কাটায়), আল্লাহ তাআলা তার প্রতি এমন আনন্দিত হন, যেমন প্রবাসে থাকা কোনো আপনজন দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরলে তার পরিবার আনন্দিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮০০)
ফেরেশতাদের অবিরাম ক্ষমা ও রহমতের দোয়া
যারা মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নফল (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) নামাজ আদায় করে ফরজের জন্য অপেক্ষা করেন, কিংবা ফরজ নামাজ শেষ করে অলসভাবে বসে না থেকে আল্লাহর স্মরণে লিপ্ত থাকেন, তাদের জন্য আল্লাহর ফেরেশতারা অনবরত ক্ষমার প্রার্থনা করতে থাকেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত অজু থাকা অবস্থায় নিজের নামাজের স্থানে বসে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে-“হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি দয়া করুন।” আর যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে নামাজ (পরবর্তী নামাজের অপেক্ষায়) মসজিদে আটকে রাখে, সে মূলত নামাজের মধ্যেই অতিবাহিত করে বলে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৯)
আসমানের দরজা খুলে বান্দাদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব
এক নামাজের পর অপর নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষা করা এতটাই পুণ্যময় কাজ যে, মহান আল্লাহ স্বয়ং ফেরেশতাদের সামনে সেই বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন।
হযরত আবদুর রহমান বিন আমর (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। এরপর কিছু মানুষ চলে গেলেন আর কিছু মানুষ মসজিদে অবস্থান করলেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) এত দ্রুতবেগে আমাদের মাঝে ফিরে এলেন যে, তিনি হাঁপিয়ে উঠছিলেন। নিজের হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে বললেন:
‘তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো! তোমাদের মহান প্রতিপালক আজ আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের নিয়ে গর্ব করে বলছেন,”তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরজ নামাজ শেষ করে পরবর্তী ফরজের জন্য গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮০১)
অতএব, মসজিদে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই একজন মুমিনের জন্য নেকি অর্জনের মহামূল্যবান সুযোগ। ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় মসজিদে কাটানো আমাদের যাপিত জীবনে বয়ে আনতে পারে অশেষ রহমত ও মানসিক প্রশান্তি।