লিটন দাসের এর আগে পাঁচটা টেস্ট সেঞ্চুরি আছে। তবে আজকের সেঞ্চুরিটাকে বিশেষ বলতেই হবে। বলা যায় ‘ক্লাসিক’ ‘স্পেশাল’ ‘দুর্দান্ত’। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে যেভাবে সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এক কথায় অসাধারণ। লিটনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশও বিপদ কাটিয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পরেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে নিচের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে লিটনের সংগ্রাম। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের উইকেট বাচিয়ে রাখতে ওভারের বেশিরভাগ বলগুলো খেলেছেন। শেষ দিকে রীতিমতো ঝড় তুলেছিলেন ব্যাটে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ২৭১/৮। ১৫২ বলে ১২০ রান করে অপরাজিত লিটন। তার সাথে ১১ রানে অপরাজিত পেসার শরিফুল ইসলাম।
শনিবার (১৬ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ভালোভাবে এগুতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১০১। অপরাজিত ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। ফর্মে থাকা দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল বিপদ কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ।
কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে বিপদ আরও বেড়েছে। মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ফিরেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ২৯ রান করে ফিরেছেন শান্ত, মুশফিক ২৩ রানে। মিরাজ ফিরেছেন মাত্র ৪ রান করে। বাংলাদেশের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার মিরাজ যখন ফিরলেন তখন স্কোরবোর্ডে রান ১১৬।
সেই সময় লিটন অপরাজিত ছিলেন ১৩ বলে ২ রান করে। সেখান থেকেই লিটনের সংগ্রাম শুরু। প্রথম দিকে পাকিস্তানি বোলারদের ওভারের বেশিরভাগ বল তিনি খেলছিলেন, লোয়ার অর্ডারের উইকেট জিইয়ে রাখতে। পরে সিদ্ধান্ত নিলেন রান তোলার দায়িত্বটাও নিতে হবে তাকেই!
৯৩ বলে ফিফটি করা লিটন সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ১৩৫ বলে। অর্থাৎ পরের পঞ্চাশ করতে খেলেছেন মাত্র ৪২ বল! উইকেট জিইয়ে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের রীতিমতো তুলধুনু করেছেন ক্লাসিক লিটন।