সিলেট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে মেয়র পদে লড়তে পারেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতারা বিষয়টিকে এখনো ‘অনুমাননির্ভর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বা গণমাধ্যমে যা আসছে, তা কেবলই অনুমান নির্ভর। কেন্দ্র থেকে মাওলানা হাবিবুর রহমানের মনোনয়নের বিষয়ে কোনো চিঠি বা বার্তা আমরা পাইনি। জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল দল, এখানে সিদ্ধান্ত আসে কেন্দ্র থেকে। যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয়, তবে তা তৎক্ষণাৎ আপনাদের জানানো হবে।’
দলীয় সূত্র জানায়, মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে তিনজনের নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিনজনের নাম পাঠিয়েছি ঠিকই, তবে কেন্দ্র চাইলে তালিকার বাইরে থেকেও কাউকে দায়িত্ব দিতে পারে। কেন্দ্র যাকে যোগ্য মনে করবে, আমরা তার হয়েই মাঠে নামব।’
তালিকায় থাকা তিনজন হলেন—মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা লোকমান আহমদ ও মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পান মাওলানা হাবিবুর রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সিলেটে তার একটি বিশাল ও সু-সংহত ভোটব্যাংক রয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী হলেও জোটগত সমীকরণে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। এ কারণে তৃণমূলের একটি অংশ এবার তাকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখতে চায় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া, মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে মাঠপর্যায়ের সংগঠক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, নগরজুড়ে তার শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এককভাবে নির্বাচন করা কিংবা সমঝোতার ভিত্তিতে জোটগত কৌশলে অংশ নেওয়া—দুই ধরনের আলোচনাই দলের ভেতরে রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত জামায়াত কি মাওলানা হাবিবুর রহমানকে প্রার্থী করবে, নাকি মাওলানা লোকমান আহমদের ওপর ভরসা রাখবে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।