ঢাকা: ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত আধুনিক আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অবকাঠামো শেয়ারিং, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছি। এ ছাড়া টেলিকম খাতে ব্যয় কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নের জন্যে অবকাঠামো শেয়ারিং, নিরপেক্ষ ডেটা সেন্টার, ক্যারিয়ার নিউট্রাল সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কি ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেসব পরিকল্পনা আছে, সে অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, মাঝখানে এই সেক্টরটি ঝিমিয়ে গিয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের উপদেষ্টা সারাক্ষণই এই সেক্টর নিয়ে রিচার্স করেন, কীভাবে আরও উন্নয়নের দিকে যাওয়া যায়।’
এখানে অনেকে অনেক কথা বলেছেন উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতাপূর্ণ মার্কেটে উন্নত বিশ্ব কোন দিকে যাচ্ছে, আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। আমাদের প্ল্যান আছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সোশ্যাল অবলিগেশন নিয়েও আমরা কথা বলছি। আমরা দেখেছি, কয়দিন আগে সোশ্যাল অবলিগেশন নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান কথা বলেছেন। সবকিছুতে আমরা চেষ্টা করছি। স্টার্টআপ কোম্পানি নিয়ে কথা এসেছে। আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় আসপেক্ট করেছেন, ইয়াং জেনারেশনকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা পাস করার পর কীভাবে তাদের চাকরি বা ব্যবসা করে দেওয়া যায় সেটা নিয়ে তিনি চিন্তা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবদিক নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। আপনাদের সহযোগিতা দরকার। আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করবেন, আমাদের কাছে আসবেন। আপনাদের জন্য সবসময় আমাদের দরজা খোলা। যখন কথা বলতে চান- আসবেন। আপনাদের কথা আমরা শুনব, শুনে ভালো ভালো কথাগুলো বেছে নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি। আমাদের উপদেষ্টা মহোদয়, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, টেলিটকের এমডি সাহেব এখানে কথা বলেছেন। ইটস অ্যা অ্যাকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট। আমরা টোটালি ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি দেখতে চাই এই সরকারে। আপনারা যারা টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্ট করেন তাদের বলব, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দিতে হবে। আপনারা যদি ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগারে রিপোর্টগুলো করেন তাহলে কারেক্ট হবো। ভুল ধরিয়ে দেবেন, আমরা নিজেদের শুদ্ধ করব। কিন্তু এমন খবর দেবেন না, যেটার কোনো বেস নেই।’
নিজের একটি বিষয় বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “অনেক দিন আগে ‘জনকণ্ঠ পত্রিকায়’ একটি রিপোর্ট করেছিল আমাকে নিয়ে। আমি ওই রিপোর্টারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি যে রিপোর্টটা করলেন, আপনি আমাকে চেনেন? তিনি বললেন, না চিনি না। আমি বললাম, তাহলে রিপোর্টটা কীভাবে করলেন। বলল, এমনি জাস্ট আপনাকে ইদানিং দেখি টেখি না, তাই খবরটা দিলাম। আপনি এরকম একটা খবর দিলেন। উনার উত্তর ছিল, ভাই নেক্সট টাইম একটা ভালো খবর দিয়ে পুষিয়ে দেব। এই যদি জার্নালিজম হয়! আপনারা সত্যি কথা বলবেন, সত্যি খবর দেবেন, তখন কিন্তু আমরা ভয়ে থাকব। আমরা যদি দোষ করি, হেডলাইন করে দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, উই ডোন্ট ওয়ান্ট টু সি দ্যা করাপশন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার সব জায়গায় বলেন, ইটস অ্যা করাপশন ফ্রি গভর্নমেন্ট। সুতরাং, আপনারা যারা জার্নালিজমে আছেন তাদের অনুরোধ করব, এমন কিছু করেন যাতে আমরা আপনাদের ভয়ে থাকি। সত্যি খবর উঠে যাবে, এরকম খবর দিলে ভয়ে থাকব। কিন্তু, একটু আগে যে বললাম, সেরকম খবর দিলে লাভ হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে আপনারা শুনেছেন, ৫জি নিয়ে আমরা ভাবছি। আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় এআই নিয়ে কথা বলছিলেন। এআই নিয়ে আমাদের সরকার খুবই সিরিয়াস। প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে এআই এবং ফ্রিল্যান্স সেন্টার করতে চাই। যার মধ্যে দিয়ে আমরা ইয়াং জেনারেশনকে শিক্ষা দিতে চাই। আমরা এমনিতেই দক্ষ ম্যানপাওয়ার কিন্তু বিদেশে পাঠাতে পারি না। আমরা যদি ইয়াং জেনারেশনকে ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠাতে পারি, তারা প্রচুর টাকা অর্জন করতে পারবে। সরকারের চিন্তাভাবনা আছে, আমরা প্রত্যেকটি উপজেলায় এআই ট্রেনিং সেন্টার করব। যাতে করে তাদের ট্রেনিং করাতে পারি। দিস ইজ থ্রাস্ট সেক্টর।’
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, নেক্সট ফাইভ ইয়ার্স ওয়ান মিলিয়ন জবস উই ক্রিয়েট। এটিকে সামনে রেখে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। সরকার কিন্তু কাজ করছে। তিন মাসের মাথায় কী করে জনগণের কাছে সেবা নেওয়া যায়, সেবা দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছি। আপনারা এরই মধ্যে দেখেছেন, আমরা বিমানবন্দরগুলোতে ওয়াইফাই ফ্রি করে দিয়েছি। আমরা ট্রেনে স্টারলিংক দিয়ে ওয়াইফাই ফ্রি করে দিয়েছি। কক্সবাজারে রেল স্টেশনে ওয়াইফাই ফ্রি করে দিয়েছি। গভর্নমেন্ট অন দ্য ট্রাক। কী করে জনগণের জন্য কাজ করা যায়, সেটি নিয়ে সরকার ভাবছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৭/১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। তার প্লানগুলো ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য যা করার দরকার উনি সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সমীর কুমার দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ এমদাদ উল বারী, টেলিটক বাংলাদেশের এমডি নুরুল মামুদ চৌধুরী, বাংলালিংকের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স তৈমুর রহমান, অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)-এর মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. লুৎফা আক্তার ও খালেদ আবু নাসের প্রমুখ।