চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট রাসায়নিক আমদানির ঘোষণা দেয়া অন্তঃত ৬৬টি বড় ব্যাগে তল্লাশি করে কাস্টমস কর্মকর্তারা ১৭ লাখ পেন্সিল ব্যাটারি ও ১৮ মেট্রিকটন তালা উদ্ধার করেছে। অথচ পেন্সিল ব্যাটারি ও তালা আমদানির কোনো ঘোষণা আমদানিকারক দেননি।
ঘোষণা না দিয়ে পেন্সিল ব্যাটারি ও তালা এনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
সোমবার (০৮ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে তিনটি আমদানি কনটেইনার খুলে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করেন কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার কর্মকর্তারা।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের হ্যান্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট আমদানির ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ৫ মে এমভি সোয়াসদি আটলান্টিক জাহাজে করে তাদের আমদানি চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নগরীর ফকিরহাটের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শামিম এন্টারপ্রাইজ পণ্যছাড়ের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

কাস্টমসের এআইআর শাখার উপ-কমিশনার মো. সাইফুল হক সারাবাংলাকে জানান, সন্দেহজনক পণ্য আমদানির তথ্য পেয়ে তিনটি কনটেইনার খালাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এনসিটি ইয়ার্ডে শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় প্রতি কনটেইনারে ২২টি করে বড় ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের চারপাশে ক্যালসিয়াম কার্বনেট পাউডার আছে। প্রতিটি ব্যাগ কেটে দেখা যায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট পাউডারের নিচে আছে ছোট ছোট কার্টন। এর ভেতরে পাওয়া যায় পেন্সিল ব্যাটারি ও তালা।
‘প্রতি কনটেইনারে ২২টি করে অন্তঃত ৬৬টি ব্যাগে কয়েক’শ কার্টনে করে ১৭ লাখ পেন্সিল ব্যাটারি ও প্রায় ১৮ মেট্রিকটন তালা নিয়ে আসা হয়েছে। বস্তার ভেতরে কার্টনগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছিল, দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে সেখানে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ছাড়া আর কিছু আছে। উচ্চশুল্ক ফাঁকি দিয়ে পেন্সিল ব্যাটারি ও তালা আনতে প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণার আশ্রয় নিয়েছিল। আমাদের তৎপরতায় প্রায় ৫ কোটি শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা প্রতিরোধ হয়েছে।’
আমদানিকারকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ এবং অর্থপাচার আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে কাস্টমসের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।