ঢাকা: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছরে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত চলছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পুরো আর্থিক খাতে এখন একটি ‘ক্লিনিং প্রসেস’ বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা অনিয়ম ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরো ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরে এখন একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে গত কয়েক বছরে সংঘটিত সব অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, দেশের টাকা লুটপাট করে যারা বিদেশে গেছেন, তাদের ব্যাপারে সরকার কোনো আপস করবে না। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই কঠোর ধারা অব্যাহত থাকবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়ম ও ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, কেবল একটি ব্যাংক নয়, অনেকগুলো ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, আর্থিক খাতের জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা সম্ভব না হলেও এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ তহবিলের আকার ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এর আওতায় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে ব্যাংক দখলের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যাংকেই এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টের কার্যক্রম নিয়ে গভীর পর্যালোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হলে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
অধিবেশনে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, সেখানে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের এই আইসিটি অবকাঠামো গ্রামীণ জনপদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।