Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনের ৩ মামলা স্থগিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ জুন ২০২২ ১৫:৫০

ফটোসাংবাদিক কাজল, ফাইল ছবি

ঢাকা: সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা তিন মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১ জুন) বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও আতাউর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে কাজলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।

আদেশের পর আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানান, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা তিন মামলার সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। কাজল বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা তিন মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সাংবাদিক কাজলের পক্ষে আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া এ আবেদন করেন।

গত বছরের ৮ নভেম্বর ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পৃথক তিন মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিক কাজলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। পরবর্তীতে ওই অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন সাংবাদিক কাজল। আজ ওই আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তিন মামলার সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানায় কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সাংসদ সাইফুজ্জামান শেখর প্রথম মামলা দায়ের করেন। এরপর ১০ ও ১১ মার্চ হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসমিন আরা ওরফে বেলী এবং সুমাইয়া চৌধুরী বন্যা পৃথকভাবে আরও দুটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রাসেল মোল্লা ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল, ৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৪ মার্চ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তিনটির অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলায় কাজলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং যুব মহিলা লীগের শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে অশালীন, মানহানিকর, আপত্তিকর ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়।

সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়েরের পরদিন ২০২০ সালের ১০ মার্চ নিখোঁজ হন। ওই বছর ৩ মে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘুরতে দেখে আটক করে। একই দিনে তাকে যশোরের একটি আদালত ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন কাজল।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস