Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরাজগঞ্জে হত্যা মামলার ১৬ বছর পর ৭ জনের যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ২৩:৪৩

সিরাজগঞ্জ: জেলার ফার্মেসি মালিক সাধন কুমার চক্রবর্তীকে কুপিয়ে হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৬ বছর পর ৭ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হামিদুল ইসলাম দুলাল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রেলওয়ে কলোনির শাহাদত হোসেন কুটুম, তারা মিয়া, ইমরান, উজ্জল, রিকো, গোলাম ও মনির।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় সাত আসামিই পলাতক ছিলেন। তাদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাধন কুমার চক্রবর্তী সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন। ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর রাতে তিনি দোকান বন্ধ করে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পৌর এলাকার মীরপুর বীরালা কুঠি এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও ব্যবহৃত সাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সাধন কুমার চক্রবর্তীকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই চন্দন কুমার চক্রবর্তী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলাটির বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হামিদুল ইসলাম দুলাল বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় কোনো আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তারা সবাই পলাতক থাকায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকরের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে নিহতের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও আদালতের এ রায় হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর