Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘পদ্মা সেতু’ নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ মে ২০২২ ২১:৩৯ | আপডেট: ২৯ মে ২০২২ ২১:৫০

ঢাকা: মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ চূড়ান্ত করেছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটির নাম নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল।

রোববার (২৯ মে) রাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের উন্নয়ন অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উপসচিব মো. আবুল হাসানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়ছে, সেতু বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে’র আওতায় মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা প্রান্ত সংযোগকারী পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি সরকার ‘পদ্মা সেতু’ নামে নামকরণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটির নামকরণ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেতুটির ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ। সে কারণে শেখ হাসিনার নামে সেতুটি নামকরণের দাবি ছিল অনেকের। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি বাস্তবায়নকে দেশের জন্য বড় জয় অভিহিত করে কেউ কেউ সেতুটির নাম ‘জয় বাংলা সেতু’ রাখার প্রস্তাব করে। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামেও সেতুটি নামকরণের দাবি ছিল।

আরও পড়ুন-

তবে গত ১৯ মে মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকেও প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেতুটির নাম ‘পদ্মা সেতু’ই রাখা হবে। আজকের (রোববার) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই ইঙ্গিতই চূড়ান্ত হলো। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী স্বপ্নের এই সেতুটির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সেতুটি উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৫ জুন।

গত ২৪ মে সকালে পদ্মা সেতুর সারসংক্ষেপ জমা দিতে গণভবনে গিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখান থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য সময় দিয়েছেন।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় স্বপ্নের এই সেতুটির নির্মাণকাজ। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করে পদ্মা সেতু। এরপর পর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর।

এরপর থেকে চলছিল সেতুর বাকি কার্যক্রম। গত সপ্তাহে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, জুন মাসে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য তারা প্রস্তুত। মূল সেতুর ওপরে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচলের জন্য এখন সেতু পুরোপুরি প্রস্তুত।

পদ্মা নদীর ওপর মূল সেতুটি নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। সেতু নির্মাণের জন্য নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দু’টি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হয়েছে সেতুটি।

আরও পড়ুন-

সারাবাংলা/জেআর/টিআর