Monday 29 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, রাশেদ চিশতীর জামিন স্থগিত


২১ জুন ২০২০ ১৫:১৪ | আপডেট: ২১ জুন ২০২০ ২১:১৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে ওই আসামির কারামুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী।

রোববার (২১ জুন) চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাশেদ চিশতীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও জেড আই খান পান্না।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সারাবাংলাকে বলেন, চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে রাশেদুল হক চিশতীকে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আদেশও স্থগিত করেছেন। ফলে তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, একইসঙ্গে চেম্বার আদালত এ আবেদনসহ আমাদের করা তিনটি আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

রাশেদুল হক চিশতীকে দেওয়া জামিন নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে গত ২৭ মে আদেশ দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সেলিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেন রাশেদ চিশতী।

এর আগে, গত ১৮ মে রাশেদ চিশতীকে ঢাকার ভার্চুয়াল নিম্ন আদালত জামিন দিয়েছিলেন। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর ফারমার্স ব্যাংকের ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী), মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুনীর্তি দমন কমিশন।

২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বখশীগঞ্জ জুট স্পিনার্সের চলতি হিসাবে গুলশান প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা জমা হয়। এর পুরোটাই নগদে তুলে নেওয়া হয়। বাকি ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন হিসাব থেকে লেনদেন হয়।

মামলার পরপরই চিশতীসহ চারজনকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। অন্য তিনজন হলেন চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান।