Thursday 25 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাটুরিয়া-আরিচা থেকে গাবতলী পর্যন্ত ভোগান্তি, ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য


২৭ আগস্ট ২০১৮ ১৯:৩৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। রিপন আনসারী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

মানিকগঞ্জ: পথে পথে শুধুই ভোগান্তি। আর ঈদের ছুটি শেষে ভোগান্তি ঠেলেই মানুষ ছুটছে রাজধানী ঢাকায়। তার সাথে যোগ হয়েছে গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এই ভোগান্তি শুরু পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত।

সোমবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায় এই দৃশ্য। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঈদের ছুটিতে যাওয়া যাত্রীরাও দৌলতদিয়া ঘাট পেরিয়ে আসছেন দুর্ভোগ নিয়ে। কাটা বাসে আসা যাত্রীরা দৌলতদিয়া ঘাট পেরিয়ে এসেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বাস কাউন্টারগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

এদিন বাথুলী, টেপড়া, বরংগাইল, বানিয়াজুরী, তরা, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, গোলড়া, নয়াডাঙ্গী বাস স্টপেজগুলোতেও ছিল বাসের আশায় যাত্রীদের অপেক্ষা। কারো কারো অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে ঘণ্টা পর ঘণ্টা পেরিয়ে।

পথে ভোগান্তি

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে গুলিস্থান পর্যন্ত বিআরটিসি বাসে নির্ধারিত ভাড়া ১৬০ টাকা। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে ফিরে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। গাবতলী পর্যন্ত চলা লোকাল বাস পদ্মা লাইন, নবীন বরন, ভিলেজ লাইন, যাত্রীসেবা পরিবহনগুলো নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া। কেবল বাসের ভেতরে নয়, আইনের তোয়াক্কা না করে গাদাগাদি করে বাসের ছাদেও তোলা হচ্ছে যাত্রী। ঈদকে পুঁজি করে ভিন্ন রুটের গাড়ি অবাদে চলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে।

যাত্রীরা আরো অভিযোগ করেন, গাবতলী পর্যন্ত চলা লোকাল বাসগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৮০-৯০ টাকা। তবে যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আরিচা-পাটুরিয়া ঘাট থেকে বাসে উঠে পরের স্টপেজে নামলেও ভাড়া একই। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। কম ভাড়ায় ফেরার আশায় অনেকে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছেন কিছু পথ, তবে ফল হচ্ছে না।

রাজবাড়ি থেকে রহিম মিয়া তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে এসেছেন পাটুরিয়া ঘাটে। সকাল ৯টা থেকে বাসের অপেক্ষায় বসে আছেন তারা। বেলা ১১টা পর্যন্ত বাসের উঠতে পারেননি। জানালেন, বাড়তি ভাড়া দেওয়ার মতো টাকা নেই তার কাছে। রহিম মিয়া বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। ঢাকার বাসাবো এলাকায় কাজ করি। ঈদে বাড়ি যেয়ে টাকা খরচ হয়ে গেছে। ফেরার ভাড়া রেখেছিলাম, কন্ডাক্টার অতিরিক্ত চাইছেন। অপেক্ষা করছি, যদি কম ভাড়ায় কেউ নিয়ে যায়।

রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) কাজ করেন ফরিদপুরের রোকেয়া বেগম ও সাহেলা বেগম। ঈদের ছুটি শেষে ফিরছেন কর্মস্থলে। রোকেয়া বেগম জানান, গাবতলী যেতেও ২শ’ টাকা, নবীনগর যেতেও ২শ’ টাকা লাগবে বলছে। অথচ আমরা ৫০-৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাই।

আরিচা ঘাটের চিত্রও ছিল একই রকম। পাবনা, বাঘাবাড়ি, কাজিরহাট, সুজানগর, বেড়াসহ আরো বিভিন্ন এলাকার ঈদ ফেরত মানুষ ঢাকায় যেতে পড়েছেন ভোগান্তিতে। নগরবাড়ির শফি উদ্দিন জানান, সাধারণত আরিচা থেকে গাবতলী যেতে বাস ভাড়া দিতে হয় ৮০-৯০ টাকা। এখন সেই ভাড়াই চাইছে ২শ’ টাকা। বিআরটিসি বাসের ভাড়া আরো বেশি! তারা চাইছে ২৫০ টাকা।

পাবনার সুজানগর এলাকার আকমল হোসেন বলেন, বর্তমানে যে ভাড়া বাসে নেওয়া হচ্ছে, আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বোঝা। প্রশাসন এসব অনিয়ম দেখেও দেখছে না।

বাস চালকরা বলছেন, ঈদের পর গাবতলী থেকে খালি গাড়ি নিয়ে তাদের ঘাটে আসতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

পথে ভোগান্তি

বেপরোয়া চলছে ফেরি এবং লঞ্চ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। এসব রুটে ৩৩টি লঞ্চ চলছে। যাত্রী যেমন বেশি, একইসঙ্গে বেশি যানজটও।

নদীর স্রোত বেশি হওয়ায় যানবাহন পার হচ্ছে ধীর গতিতে। তাই সকাল থেকেই ঘাট ছাড়িয়ে যানবাহনের লাইন লম্বা হয়েছে কয়েক কিলোমিটার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গাড়িগুলোকে ফেরির সিরিয়াল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দেড়-দুই ঘণ্টা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা অঞ্চলের এজিএম জিল্লুর রহমান সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি চলছে। ঈদের আগে মাওয়া এলাকায় নব্যতা সংকটের কারণে সেখানে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে তাই যানবাহনের চাপ বেশি। ঈদের পরে দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেশিই থাকে। এবারো অবস্থা একই। তবে পাটুরিয়া ঘাটে কোনো সমস্যা নেই।

পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) একেএম ফজলুল হক বলেন, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেন না। ফলে আমাদের আড়ালে ভাড়া নিয়ে যে নৈরাজ্য হয়, সেখানে কিছু করার থাকে না।

সারাবাংলা/এটি