Thursday 25 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাঠ কার্যালয়ের সংকট দূর করতে ইসি’র চিঠি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৫ জুন ২০২৬ ২০:২৮

ঢাকা: মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে তীব্র অবকাঠামোগত সংকট কাটাতে নতুন ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবন সম্প্রসারণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য এরই মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে পৃথক দুটি চিঠি পাঠিয়ে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা ডিপিপি প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইসি সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসি’র উপ-সচিব মুহাম্মদ মোস্তফা হাসানের সই করা এই চিঠিতে জানা গেছে, বর্তমানে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ৫১৪টি থানা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে ইসি দেশজুড়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অনেক স্থানেই পর্যাপ্ত জায়গার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে ইসি উল্লেখ করেছে যে, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করা ছাড়াও সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব পালন করতে হয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে। এই ক্রমবর্ধমান কার্যাবলি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ইতিমধ্যে প্রতিটি অফিসে শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও রেকর্ডপত্র ও নির্বাচনী মালামাল সংরক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার উপযুক্ত স্থান না থাকায় দৈনন্দিন দাফতরিক কাজ ও জনসেবা প্রদানে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অনির্মিত আঞ্চলিক ও জেলা অফিসগুলোর নতুন ভবন তৈরি এবং পুরোনো ভবনগুলোর সম্প্রসারণ করা জরুরি। চিঠিতে ঢাকা আঞ্চলিক ও জেলা অফিসসহ মাদারীপুর ও গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের জন্য নতুন ভবন নির্মাণে একটি ডিপিপি এবং বাকি ৫১টি জেলা নির্বাচন অফিসের বিদ্যমান ভবন সম্প্রসারণে আরেকটি ডিপিপি প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে লেখা চিঠিতে উপজেলা পর্যায়ের সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, প্রতিটি উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাসহ প্রায় ১০ জন কর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণির সহকারী কর্মকর্তাও পদায়ন করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে সেখানেও মালামাল সংরক্ষণ ও দাফতরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে মোট ৪৯টি উপজেলা নির্বাচন অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ অথবা কমপক্ষে ৫ হাজার বর্গফুট স্পেস বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩০টি উপজেলায় এখনও ভূমি বরাদ্দ না মেলায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জমি বরাদ্দের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর যেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কোনো জমি পাওয়া যাবে না, সেখানে বিকল্প হিসেবে উপজেলা পরিষদ ভবনেই প্রয়োজনীয় স্পেস বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর