Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

হঠাৎ বিপদে পড়লে মুক্তির উপায়

সারাবাংলা ডেস্ক
২৫ জুন ২০২৬ ২০:৪৫

মানবজীবনে উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখ এবং বিপদ-আপদ আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে যেকোনো আকস্মিক বিপদে বা সংকটে মুমিনের প্রধান দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলাই মুমিনের একমাত্র ও চূড়ান্ত ভরসাস্থল। দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি বান্দার অবিচল আস্থা, বিনয় ও নির্ভরতা প্রকাশ পায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত হতে বিমুখ, তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সূরা গাফির: ৬০)

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবিদের বিপদের সময় পাঠ করার জন্য বিশেষ কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। নিচে এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া উল্লেখ করা হলো:

বিজ্ঞাপন

সব ধরনের বিপদ দূর হওয়ার আমল

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি কি তোমাকে এমন দোয়া শিখিয়ে দেবো, যা তুমি কোনো বিপদে পড়লে পড়বে?’ হযরত আলী (রা.) সম্মতি জানালে নবীজি (সা.) বলেন, তুমি কোনো বিপদে পড়লে এই দোয়াটি পড়বে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমার সব ধরনের বিপদ-আপদ দূর করে দেবেন। (আল আযকার লিননবী)

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ওয়ালা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযিম।

অর্থ: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি); মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় এবং (পুণ্য করার) কোনো শক্তি নেই।

কঠিন সংকটে নবীজি (সা.)-এর আমল

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জীবনের যেকোনো কঠিন বা বড় বিপদের সময় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম)

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি পরম সহিষ্ণু ও মহিয়ান। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি মহান আরশের রব। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি আসমান-জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব।

উল্লেখ্য, বিপদ-আপদ মূলত মানুষের ঈমানের পরীক্ষা। তাই যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিশেহারা না হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করা উচিত।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর