Thursday 25 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে জবিতে পলিসি ডিবেট

জবি করেসপন্ডেন্ট
২৫ জুন ২০২৬ ২১:৩৫

পলিসি ডিবেটে বিভিন্ন ভূমিকায় অংশগ্রহণকারীরা।

জবি: দেশের স্বার্থবিরোধী বলে দাবি করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) একটি পলিসি ডিবেটের আয়োজন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংগঠনটির উদ্যোগে ‘এই সংসদ মনে করে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সময়কালেই বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের উচিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ বাতিল করা’ শীর্ষক এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব। মডারেটর ছিলেন শিক্ষক ও গবেষক মাহা মীর্জা। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ।

বিজ্ঞাপন

বিতর্কে সরকারি দলের পক্ষে অংশ নেন ওমর ফাহমিদ খান, আমরিন বিনতে ইসলাম এবং তাসমিয়া তাহমিদ আপন। বিরোধী দলের পক্ষে অংশ নেন মার্জিয়া মিম, মাহমুদুল হাসান তুষার ও আবু সুফিয়ান নাহিদ।

বিতর্ক শেষে বক্তব্য দেন প্যানেলিস্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা জুলাই সনদের বিরোধী। অথচ জুলাই সনদের প্রতি আস্থা রাখার দাবি করা সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করছেন না।’

রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে করা এই মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এ চুক্তি কার্যকর হলে দেশের ডেইরি ও পোল্ট্রি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি বিনা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত হাজার পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করলে স্থানীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রদর্শনী বিতর্কের মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, দেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, আগ্রাসন ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।’

সমাপনী বক্তব্যে মডারেটর মাহা মীর্জা বলেন, ‘বাণিজ্য চুক্তির প্রতিটি ধারা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষার অজুহাতে দেশের অন্যান্য শিল্প ও কৃষিখাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এরইমধ্যে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল ঘোষণা করেছে এবং বিশ্বের অনেক দেশ কোনো চুক্তি ছাড়াই এ সুবিধা পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির মাধ্যমে দেশের ওষুধ শিল্প, পোল্ট্রি, ডেইরি, ই-কমার্স ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে গার্মেন্টস খাতকেও অধিক দামের মার্কিন তুলার ওপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দেশের নিজস্ব নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।’