খুলনা: চলতি বছর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকলের কবর আগেই রচনা করেছি। এ বছর থেকে নয়টি বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে; এবং আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যারাই প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত কোনো পোস্ট ফেসবুকে দেবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎক্ষণাৎ তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, প্রমাণ চাইবেন তাদের কাছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে ঢোকানোর পরেও আগে থেকে কেউ যদি পরীক্ষার হলে বইপত্র রেখে আসে, তার দায় শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের জন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়, যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে। যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে।’
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমরা র্যান্ডম স্যাম্পলিং-এর মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে চেক করব যে কীভাবে মার্কিং করা হচ্ছে, কীভাবে খাতা দেখা হচ্ছে। আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই সংশোধনী পাশ হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে খাতা চেক করা যাবে।’
কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি চান আনন্দদময় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার সংমিশ্রণ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্কুলে মিড-ডে মিল দেওয়া হবে এবং এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। শিক্ষার কোনো পর্যায়েই কোনো সেশন জট থাকবে না।’
শিক্ষক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দীর্ঘ সময় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা। বিগত ২০ বছর ধরে যে সকল শিক্ষকরা ফাঁকি দিয়ে প্রভাব খাঁটিয়ে গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসে বসবাস করছেন, তাদের আবার গ্রামের স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস. এম. তৌহিদুজ্জামান। সভায় খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।