Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫২

ঢাকা: বাংলাদেশে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক সংহতি জোরদার করার পাশাপাশি একটি আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মসহ সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

‎মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও তার সহযোগীরা জার্মান সরকারের সহায়তায় এই সংলাপের আয়োজন করে।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর সাধারণ মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি, শিক্ষা ও সরকারি সেবা গ্রহণসহ নানা খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে একটি সুরক্ষিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য ব্যবস্থা গড়তে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অপতথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর অপপ্রচারের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শুধু একক কোনো সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়; এজন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি নাগরিক ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

‎তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বিশ্বস্ত ও জবাবদিহিতামূলক ডিজিটাল তথ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেন তিনি।

‎সংবাদ সংস্থানে যুক্ত হয়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের এই সময়ে বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়েছে। ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে নৈতিক সাংবাদিকতা বজায় রাখা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত ইউএনডিপি বাংলাদেশের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকেরও বেশি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ধারণ করেছে। এছাড়া প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কনটেন্টে এআই-নির্ভর কারসাজির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা ডিজিটাল জগতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে।

‎উক্ত নীতি সংলাপে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ), বিটিআরসি, বাংলাদেশ পুলিশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
‎সারাবাংলা/এনএল/এসআর